কামরুল হাসান নিরব,ফেনী:
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভুঞা পতিত আ’লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিক বার মামলা-হামলা ক্রসফায়ারের মুখোমুখি হয়েও প্রাণে বেচেঁ যান। তৃণমূলের জনপ্রিয়তা আর মায়ের দোয়া, আল্লাহর রহমতে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন বলে তিনি মনে করেন। ৯০ এর দশক হতে যখন সাদা কাপড়ের রং তুলি দিয়ে ব্যানার তৈরি করে মিছিল হত তখন হতেই রাজনীতি তে এক দুঃসাহসিক নাম ছিল খুরশিদ। ৯৭তে খুরশিদের প্রাননাশের উদ্দেশ্যে গুলি করেছে আওয়ামী লীগের কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ঐ গুলির যন্ত্রণা নিয়ে এখনো বয়ে বেড়ান খুরশিদ।
ছাত্রদল থেকে গড়ে উঠা যুবদল নেতা খুরশিদের দলের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং নেতৃত্বে চমকের জন্য তাকে ২০১১ সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছিল। নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে স্বৈরাচার আ’লীগ সরকার বিরোধি সকল দলীয় কর্মসূচিতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে জেলা ব্যাপী দৃষ্টান্ত তৈরি করার ন্যায় অবস্থান সৃষ্টি করেন খুরশিদ।
কথিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বিরোধি সকল কর্মসূচিতে তার অবস্থান ছিল সু-দৃঢ। বন-জঙ্গল আর রাস্তায় ঘুমিয়ে দিনের বেলায় কর্মসূচি পালন করে যেতেন। তার ডাকে সাড়ে দিয়ে মুহুর্ত্বের মধ্যেই সোনাগাজীতে যুবদল, ছাত্রদল স্বেচ্ছাসেবকদল সহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভীমরুলের মতো ছুটে আসেন। কর্মী বান্দব এ যুবনেতা কখনো কর্মী শুন্যতা অনুভব করেননি। তিনি ও নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে জীবনবাজী রেখে ঝাপিয়ে পড়েন।
জানা যায়, খুরশিদের জনপ্রিয়তা দেখে পতিত আ’লীগ সরকারের তৎকালীণ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় ২০১৩ সালে হত্যার উদ্দেশ্যে আ’লীগ সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুত্বও আহত করে ফেলে রেখে যায়। স্থানীয় জনতা তাকে উদ্ধার করে মৃত্যু শয্যায় ফেনী থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে উপজেলায় ২ দিন হরতালের ডাক দিলে স্বতস্ফূর্ত ভাবে পালন করা হয়। তাকে দেখতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ঢাকায় হাসপাতালে ছুটে যান। এ অবস্থায় তার জনপ্রিয়তায় ইশান্বিত হয়ে তাকে পতিত সরকার রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার জন্য যুবদল নেতার নামে ৪০টির ওপরে মামলা প্রদান করে হয়রানি করতে থাকে।
তাতেও কোন কাজ না হওয়ায় ২০১৬ সালে আবারো তৎকালীণ র্যাবের মাধ্যেমে ক্রস ফায়ার দেওয়ার জন্য পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আটক করা হয়। ক্রসফায়ার দেওয়ার ঘটনা জানা জানি হয়ে গেলে, হাজার হাজার নেতাকর্মী উপজেলায় বিক্ষোভ ফেটে পড়ে। পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যায় এবং সোনাগাজী মডেল থানা ঘেরাও করে পুলিশ প্রশাসনকে অবরুদ্ধ করে রাখলে দীর্ঘ ২২ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির পর উপায় না দেখে র্যাব যুবদল নেতাকে ক্রসফায়ার না দিয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এ ভাবেই একজন যুবদল নেতা রাজনৈতিক প্রতি পক্ষের প্রতি হিংসার শিকার হয়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার পথ থেকে জনপ্রিয়তায় বার বার হামলা-মামলা আর ক্রসফায়ার থেকে বেচেঁ যান যুবদল নেতা খুরশিদ।
সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব রাসেল হামিদী বলেন, যুবদল নেতা খুরশিদ জাতীয়াতাবাদী দলের তৃণমূলের প্রাণ। তাকে পতিত সরকার বার বার ষড়যন্ত্র করে থামিয়ে দিতে চেয়ে ছিল। কিন্তুু নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সব সময় তা ব্যার্থ হয়েছে।
যুবদল নেতা খুরশিদ আলম ভুঞা বলেন, দল আমার প্রতি যে আস্থা রেখেছেন তার যথাযথ মূল্যায়ন আমি গত দিন গুলোতে পরীক্ষা দিয়েছি। আগামীতেও জীবন বাজী রেখে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবো। আমার মরহুমা মায়ের দোয়ায় মৃত্যুর মুখ থেকে বার বার ফিরে এসেছি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবলু বলেন, সোনাগাজীতে যুবদল নেতা হলো আমাদের জনপ্রিয় যুব আইকন। তার জাতীয়তাবাদী নিবেদিত মানসিক শক্তি তৃণমূল নেতাকর্মীদের শক্তি সঞ্চয় করে। জাতীয়তাবাদী শক্তির রাজনীতি করার অপরাধে সে বার বার মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছে।